শীর্ষ বৈঠক শেষে প্রচারিত যৌথ বিবৃতিতে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। ঋণচুক্তির আওতায় বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যানবাহনের তালিকা চূড়ান্ত করায় ভারত সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার দিনের ভারত সফর শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দেশে ফিরেছেন। তাঁর সফরের আগের দিন ৪ সেপ্টেম্বর ৫০ কোটি ডলারের (৪ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা) ঋণচুক্তির আওতায় সাতটি ভাসমান সেতুর জন্য ভারতের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ। এতে খরচ হবে প্রায় ১১ লাখ মার্কিন ডলার। এ ছাড়া এ ঋণচুক্তির আওতায় কেনার জন্য বাংলাদেশ সম্ভাব্য একটি তালিকাও ভারতের কাছে পাঠিয়েছে।
 |
| নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার, নয়াদিল্লি, ভারত ছবি: পিআইডি |
ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিনয় কোয়াত্রা গত মঙ্গলবার দিল্লিতে বলেছেন, প্রতিরক্ষা খাতের ঋণচুক্তির আওতায় প্রথম লিখিত দলিল এ
সপ্তাহের শুরুতে সই হয়েছে। এ ক্ষেত্রে টাকার পরিমাণ কম হলেও এটিকে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলা যায়।
দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ঋণচুক্তির আওতায় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার জন্য বাংলাদেশ একটি তালিকা দিয়েছে। ওই তালিকায় ব্রিজ লেয়ার ট্যাংক, ভাসমান সেতু, ট্রাক ও মাইন প্রতিরোধক যান রয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর যে চুক্তি সই হয়েছে, সেটি বাংলাদেশের অনুমোদিত তালিকারই অংশ।
এর আগে ২০১৭ সালের এপ্রিলে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের পর দুই দেশ প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই করে। ওই সময় বাংলাদেশকে প্রতিরক্ষা খাতে ৫০ কোটি ডলার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। দুই সরকারপ্রধানের এবারের শীর্ষ বৈঠক শেষে প্রচারিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দুই শীর্ষ নেতা দক্ষিণ এশিয়া এবং এ অঞ্চলের বাইরে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদের বিস্তার রুখতে তাঁদের জোরালো অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, দুই নিকট প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রীরা নিরাপত্তা খাতে তাঁদের সহযোগিতার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর তাঁরা জোর দিয়েছেন।
দুই নিকট প্রতিবেশীর নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়ে ঢাকায় ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী প্রথম আলোকে বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ দমনে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর জোরালো অঙ্গীকারের প্রতিফলন যৌথ বিবৃতিতে দেখতে পাই। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের ধাক্কা দুই দেশকেই সামাল দিতে হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ দমনের জন্য গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় হচ্ছে। এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে।’
এ ছাড়া বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ও ভারত উপকূলীয় রাডার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছিল। তাতে বলা হয়, এ রাডার ব্যবস্থার মাধ্যমে যৌথভাবে উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হবে। দুই প্রধানমন্ত্রীর এবারের শীর্ষ বৈঠকে উপকূলীয় রাডার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সমঝোতা স্মারকটি দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছে ভারত।
বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব মো. তৌহিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, যেহেতু উপকূলে নজরদারির বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে কয়েক বছর আগে, ভারত এটি বাস্তবায়নের তাগিদ দিতেই পারে। তবে নজরদারির সময় যেসব তথ্য পাওয়া যাবে, তাতে বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার নিশ্চিত হচ্ছে কি না, সেটা দেখা জরুরি।
0 মন্তব্যসমূহ